তুলাইপাঞ্জি ধান নিয়ে গবেষণা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের
দি নিউজ লায়ন ; সুগন্ধি তুলাইপাঞ্জি ধানের ফলন ও মানোন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণায় এবার বিপ্লব আসতে চলেছে। উত্তর দিনাজপুরের তুলাইপাঞ্জির সাথে অন্যান্ন দেশী ধানের সংমিশ্রণে শীঘ্রই আসতে চলেছে "তুলাইমতি", এমনই দাবী উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক রায়গঞ্জের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র রায়ের।
বস্তুত উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা হওয়াতে ছোট বেলা থেকেই তুলাইপাঞ্জির সাথে গভীর আত্মীক যোগাযোগ সুভাষ বাবুর। আর দিনাজপুরের এই সুগন্ধী চাল যাতে বিশ্ববাজারে উন্নিত পারে এমনকি দেশের সর্বত্র যাতে এই ধানের চাষ বিপুল ভাবে হয় এখন সেই লক্ষ পুরনেই দিনরাত এক করে চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষনা। তবে প্রজনন বিদ্যার মাধ্যমে আইআর-৬৪, বাসমতির সাথে তুলাইপাঞ্জি ধানকে একত্রিত করে উচ্চমানের ফলন ও সুগন্ধীযুক্ত নতুন ধানের বীজ তৈরিতে সাফল্য পেয়েছেন বলে তার দাবী।
শুধু তাইই নয়, এই নয়া বীজকে "তুলাইমতি" নাম দিয়েছেন গবেষক সুভাষ চন্দ্র রায়। তার দাবী এই ধান বাসমতির মত লম্বা ও তাতে তুলাইপাঞ্জির সুগন্ধ মিলেমিশে রয়েছে। এমনকি ফলনও হবে আইআর-৬৫ এর মত বিপুলহারে। আর তাই দিনাজপুরের তুলাইপাঞ্জি নতুন রূপে নতুন স্বাদে চাষীদের হাতে আসা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২২শে জুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে উত্তর দিনাজপুরের এই সুগন্ধি ধান জিআই(জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এই বিশেষ ধান শুধুমাত্র উত্তর দিনাজপুরেই নয়। বরং উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মালদা এবং দক্ষিন দিনাজপুরে এলাকাতেও চাষ হয়। কিন্তু উত্তর দিনাজপুরে উৎপাদিত তুলাইপাঞ্জি চাল সুগন্ধির জন্য বিখ্যাত। আর উত্তর দিনাজপুরের মুলত রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ ও ইটাহার ব্লকেই এর চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এর ফলন অনেকটাই কম। তাই দিনে দিনে এই ধান চাষে খুব একটা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না চাষীরা।
সেই কারনে এই ধানের জিনগত বৈশিষ্টের কিছু বদল ঘটাতে এই প্রজনন বিদ্যার মাধ্যমে মানোন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন এই গবেষক। এদিন সুভাষ বাবু জানান, “তুলাইপাঞ্জির ফলন কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়েই আমার গবেষনা। আমি ফিলিপাইন্স ও আমেরিকার বিশ্ব ধান গবেষনা কেন্দ্রে এনিয়ে বিশদে উপস্থাপিত করেছি। গবেষনার প্রায় শেষ মুহুর্তে রয়েছি। আমি আশাবাদী আমার এই নতুন তুলাইমতি ধান প্রচুর ফলনশীল এবং স্বাদে, গন্ধে, আকারে ও পুষ্টিগুনে ভরপুর হবে।
এমনকি এই ধান চাষ করে দেশীয় চাষীরা তা বেশি দামে দেশে ও বিদেশেও বিক্রি করতে পারবেন।” এর পাশাপাশি প্রজনন বিদ্যার মাধ্যমে আইআর-৬৪, রঞ্জিত মাসুরি, পুষাবাসমতি-১৪৬০ এর মত দেশি ও বিদেশি ধানের সাথে এই তুলাইপাঞ্জি ধানের প্রজনন ঘটিয়ে এর ফলন বৃদ্ধির উপায় প্রায় আবিস্কার করে ফেলেছেন এই অধ্যাপক। তার তথ্যানুযায়ী তার এই আবিস্কারের ফলে এখন বিঘে প্রতি তুলাই প্রায় ৬ থেকে ৮মন ধান হয়, তার নতুন আবিস্কৃত বীজে ফলন প্রায় চৌগুন হবে বলে এদিন দাবী করেছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র রায়।

Post a Comment